শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩

বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ধ্বংস করাই যার মূল উদ্দেশ্

Photo: ''জয়ের ইশারায় অধ্যাপক আরাফাতের ইসলামবিদ্বেষী মিশন''

''আওয়ামীলীগঃ বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ধ্বংস করাই যার মূল উদ্দেশ্য''

কে এ আরাফাত ???

ইন্ডিপেন্ডেন্ট নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক তিনি। বর্তমান সময়ে টেলিভিশন টকশোর আলোচিত ও সমালোচিত মুখ। প্রায় প্রতিদিনই তাকে কোনো না কোনো টেলিভিশনে দেখা যায়। তেমন বিখ্যাত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়েও, এমনকি বুদ্ধিজীবী মহলে তার কোন সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন, কিভাবে টকশোর আলোচক হিসেবে এতো গুরুত্ব পান সে বিষয়টি জানার কৌতূহল জাগে অনেকের। কারণ নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুরিভুরি অধ্যাপকরাও বিশেষজ্ঞরা টিভি টকশোতে সুযোগ পাচ্ছেন না। টিভি টকশোতে আরাফাতের মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জুনিয়র অধ্যাপকের এতো উপস্থিতি সবাই সন্দেহের চোখে দেখছেন। কিন্তু কি বিশেষ যোগ্যতা রয়েছে আরাফাতের, যার জন্য টকশোতে তার সরব উপস্থিতি? সেটা জানতেই আরাফাতের সম্বন্ধে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধান থেকে বেরিয়ে আসে সুশ্রী চেহারার এই আরাফাতের গোপন মিশনের খবর।
আরাফাতের পরিচয় শিক্ষক হলেও সে মূলত শেখ হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ট বন্ধু। জয় ও আরাফাত যুক্তরাষ্ট্রে একসাথেই পড়ালেখা করেছে। সেখান থেকে তারা দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু। আরাফাত বিদেশে স্টাডি করলেও তাকে জয়ই দেশে পাঠিয়েছে এজেন্ট হিসেবে। জয়ের ইহুদিচক্র ও ভারতীয় ‘র’ এর ইসলামবিদ্বেষী মিশনের বাংলাদেশের প্রধান এই আরাফাত। জয় দেশের বাইরে অদৃশ্য থেকে দেশিয় এজেন্টদের ব্যবহার করে ‘মোসাদ’ ও ‘র’ এর মিশন বাস্তবায়ন করাচ্ছে। এই মিশনে আরাফাতের দায়িত্ব যুব সংগঠক হিসেবে। যুবকদের সংগঠিত ও জয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টার কাজ করছেন আরাফাত। সামাজিক মাধ্যমে নাস্তিক গ্রুপটিও আরাফাতের ছত্রছায়ায় সৃষ্ট। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অনলাইন এক্টিভিস্টরা আরাফাতের সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সদস্য। আরাফাতই জয়ের নির্দেশে ডা. ইমরানের নেতৃত্বে শাহবাগে আন্দোলন শুরু করায়। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার রায় এবং তার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের নাটকটি পূর্বপরিকল্পিত। ভারতের মদদে জয়ই আরাফাতের মাধ্যমে মিডিয়ার যোগসাজশে এ নাটকটি মঞ্চস্থ করে। আরাফাতের পরিকল্পনাতেই মূলত আওয়ামী নীতিনির্ধারণ হচ্ছে। কারণ তিনি জয়ের এজেন্ট। পর্দার সামনে আরাফাত আওয়ামী বুদ্ধিজীবীর দায়িত্বপালন করছে আর পর্দার আড়ালে নীতিনির্ধারণে ভুমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইসলাম নির্মূলের বিষয়ে। শাহবাগ থেকে প্রতিটি উচ্চারিত শ্লোগান তারই প্রমাণ। এমনকি হেফাজতে ইসলামির অর্থ লেনদেনের কাহিনীও আরাফাতেরই বানানো।
আরাফাতের আরো গোপন কর্মকান্ড ধারাবহিকভাবে তুলে ধরা হবে। আজকের লেখা শেষ করছি আরাফাতের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় উল্লেখ করে।
আরাফাতের স্ত্রী অভিনেত্রী শমি কায়সার। শহিদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। শমি প্রথম বিয়ে করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্মাতা রিংগোকে। রিংগোর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মালিকের সাথে লিভ-টুগেদার করেন দীর্ঘ সময় (নামটা ইচ্ছাকৃত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলাম)। সর্বশেষ আরাফাত তাকে বিয়ে করেন। শমীর সাথে আছে দেশে বড় বড় কূটনীতিকদের সম্পর্ক। দলীয়ভাবে তাকে ব্যবহার করেন আরাফাত। পাশাপাশি ভারতীয় এজেন্ট সামলান তিনি। তারেক ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে নিয়ে ভারতীয় খরচে বাংলাদেশী মিডিয়া যে অপপ্রচালায় চালায় জয়ের হয়ে এই আরাফাত সেই। সঙ্গে কিছু ব্যবসায়ী।

তাকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে একটি সংবাদও ছাপা হয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওই রিপোর্টি পাঠকদের উদ্দেশে তা হুবুহু প্রকাশ করা হল



বাংলাদেশ প্রতিদিন
(৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২৫ মাঘ ১৪১৮, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩)

জয়ের বন্ধু পরিচয়দানকারী কে এই আরাফাত?

আগে তিনি বিভিন্ন পার্টিতে নিজেকে পরিচয় দিতেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু। ইদানীং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নিজের নামের আগে জয়ের বন্ধু পরিচয় দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত শনিবার 'সাম্পান' নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের একটি সেমিনারের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ এ আরাফাতের পরিচয় উল্লেখ করেছে তিনি 'সজীব ওয়াজেদ জয়'র ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সূচিন্তা ফাউন্ডেশনের কর্নধার। আসলে কে এই আরাফাত? যিনি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিচয় দেন জয়ের বন্ধু? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে আরাফাত নামের এ ব্যক্তির সঙ্গে জয়ের পরিচয়ই ছিলো না। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোন এক সেমিনারে দেখা হওয়ার সুবাদে নাম ভাঙ্গানো শুরু করেন। এই পরিচয়েই তিনি বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাগিয়ে নিচ্ছেন। তার চেয়ে অধিক বয়সী একজন অভিনেত্রীকে বিয়ে করে আরাফাত প্রথম মিডিয়ার শিরোনাম হন। এখন প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গানোই তার কাজ। 'সাম্পান' নামে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পলিটিক্যাল রিসার্চ অরগানাইজেশন হিসেবে দাবি করে গত রোববার সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম মাওলা রনি, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, মো. এ. আরাফাত, মেয়র প্রার্থী ড. তুহিন মালিক, জাকের পার্টির কায়সার হামিদ ও 'গড়বো বাংলাদেশ' এর কামরুল হাসান নাসিম। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই সেমিনারে বক্তারা জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাও প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক থেকে আসা একটি বেসরকারি টিলিভিশনের পরিচালকও একইভাবে প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন। অবশ্য এখন নাম ভাঙ্গানো ব্যক্তিটি তার নিজের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির কারণে বেসরকারি টেলিভিশনেও যেতে পারেন না। আরাফাত এবং এই ব্যক্তিটি খুবই ঘনিষ্ঠ।
''জয়ের ইশারায় অধ্যাপক আরাফাতের ইসলামবিদ্বেষী মিশন''

''আওয়ামীলীগঃ বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ধ্বংস করাই যার মূল উদ্দেশ্য''

কে এ আরাফাত ???

ইন্ডিপেন্ডেন্ট নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক তিনি। বর্তমান সময়ে টেলিভিশন টকশোর আলোচিত ও সমালোচিত মুখ। প্রায় প্রতিদিনই তাকে কোনো না কোনো টেলিভিশনে দেখা যায়। তেমন বিখ্যাত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়েও, এমনকি বুদ্ধিজীবী মহলে তার কোন সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন, কিভাবে টকশোর আলোচক হিসেবে এতো গুরুত্ব পান সে বিষয়টি জানার কৌতূহল জাগে অনেকের। কারণ নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুরিভুরি অধ্যাপকরাও বিশেষজ্ঞরা টিভি টকশোতে সুযোগ পাচ্ছেন না। টিভি টকশোতে আরাফাতের মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জুনিয়র অধ্যাপকের এতো উপস্থিতি সবাই সন্দেহের চোখে দেখছেন। কিন্তু কি বিশেষ যোগ্যতা রয়েছে আরাফাতের, যার জন্য টকশোতে তার সরব উপস্থিতি? সেটা জানতেই আরাফাতের সম্বন্ধে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধান থেকে বেরিয়ে আসে সুশ্রী চেহারার এই আরাফাতের গোপন মিশনের খবর।
আরাফাতের পরিচয় শিক্ষক হলেও সে মূলত শেখ হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ট বন্ধু। জয় ও আরাফাত যুক্তরাষ্ট্রে একসাথেই পড়ালেখা করেছে। সেখান থেকে তারা দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু। আরাফাত বিদেশে স্টাডি করলেও তাকে জয়ই দেশে পাঠিয়েছে এজেন্ট হিসেবে। জয়ের ইহুদিচক্র ও ভারতীয় ‘র’ এর ইসলামবিদ্বেষী মিশনের বাংলাদেশের প্রধান এই আরাফাত। জয় দেশের বাইরে অদৃশ্য থেকে দেশিয় এজেন্টদের ব্যবহার করে ‘মোসাদ’ ও ‘র’ এর মিশন বাস্তবায়ন করাচ্ছে। এই মিশনে আরাফাতের দায়িত্ব যুব সংগঠক হিসেবে। যুবকদের সংগঠিত ও জয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টার কাজ করছেন আরাফাত। সামাজিক মাধ্যমে নাস্তিক গ্রুপটিও আরাফাতের ছত্রছায়ায় সৃষ্ট। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অনলাইন এক্টিভিস্টরা আরাফাতের সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সদস্য। আরাফাতই জয়ের নির্দেশে ডা. ইমরানের নেতৃত্বে শাহবাগে আন্দোলন শুরু করায়। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার রায় এবং তার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের নাটকটি পূর্বপরিকল্পিত। ভারতের মদদে জয়ই আরাফাতের মাধ্যমে মিডিয়ার যোগসাজশে এ নাটকটি মঞ্চস্থ করে। আরাফাতের পরিকল্পনাতেই মূলত আওয়ামী নীতিনির্ধারণ হচ্ছে। কারণ তিনি জয়ের এজেন্ট। পর্দার সামনে আরাফাত আওয়ামী বুদ্ধিজীবীর দায়িত্বপালন করছে আর পর্দার আড়ালে নীতিনির্ধারণে ভুমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইসলাম নির্মূলের বিষয়ে। শাহবাগ থেকে প্রতিটি উচ্চারিত শ্লোগান তারই প্রমাণ। এমনকি হেফাজতে ইসলামির অর্থ লেনদেনের কাহিনীও আরাফাতেরই বানানো।
আরাফাতের আরো গোপন কর্মকান্ড ধারাবহিকভাবে তুলে ধরা হবে। আজকের লেখা শেষ করছি আরাফাতের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় উল্লেখ করে।
আরাফাতের স্ত্রী অভিনেত্রী শমি কায়সার। শহিদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। শমি প্রথম বিয়ে করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্মাতা রিংগোকে। রিংগোর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মালিকের সাথে লিভ-টুগেদার করেন দীর্ঘ সময় (নামটা ইচ্ছাকৃত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলাম)। সর্বশেষ আরাফাত তাকে বিয়ে করেন। শমীর সাথে আছে দেশে বড় বড় কূটনীতিকদের সম্পর্ক। দলীয়ভাবে তাকে ব্যবহার করেন আরাফাত। পাশাপাশি ভারতীয় এজেন্ট সামলান তিনি। তারেক ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে নিয়ে ভারতীয় খরচে বাংলাদেশী মিডিয়া যে অপপ্রচালায় চালায় জয়ের হয়ে এই আরাফাত সেই। সঙ্গে কিছু ব্যবসায়ী।

তাকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে একটি সংবাদও ছাপা হয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওই রিপোর্টি পাঠকদের উদ্দেশে তা হুবুহু প্রকাশ করা হল


বাংলাদেশ প্রতিদিন
(৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২৫ মাঘ ১৪১৮, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩)

জয়ের বন্ধু পরিচয়দানকারী কে এই আরাফাত?

আগে তিনি বিভিন্ন পার্টিতে নিজেকে পরিচয় দিতেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু। ইদানীং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নিজের নামের আগে জয়ের বন্ধু পরিচয় দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত শনিবার 'সাম্পান' নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের একটি সেমিনারের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ এ আরাফাতের পরিচয় উল্লেখ করেছে তিনি 'সজীব ওয়াজেদ জয়'র ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সূচিন্তা ফাউন্ডেশনের কর্নধার। আসলে কে এই আরাফাত? যিনি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিচয় দেন জয়ের বন্ধু? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে আরাফাত নামের এ ব্যক্তির সঙ্গে জয়ের পরিচয়ই ছিলো না। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোন এক সেমিনারে দেখা হওয়ার সুবাদে নাম ভাঙ্গানো শুরু করেন। এই পরিচয়েই তিনি বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাগিয়ে নিচ্ছেন। তার চেয়ে অধিক বয়সী একজন অভিনেত্রীকে বিয়ে করে আরাফাত প্রথম মিডিয়ার শিরোনাম হন। এখন প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গানোই তার কাজ। 'সাম্পান' নামে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পলিটিক্যাল রিসার্চ অরগানাইজেশন হিসেবে দাবি করে গত রোববার সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম মাওলা রনি, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, মো. এ. আরাফাত, মেয়র প্রার্থী ড. তুহিন মালিক, জাকের পার্টির কায়সার হামিদ ও 'গড়বো বাংলাদেশ' এর কামরুল হাসান নাসিম। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই সেমিনারে বক্তারা জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাও প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক থেকে আসা একটি বেসরকারি টিলিভিশনের পরিচালকও একইভাবে প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন। অবশ্য এখন নাম ভাঙ্গানো ব্যক্তিটি তার নিজের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির কারণে বেসরকারি টেলিভিশনেও যেতে পারেন না। আরাফাত এবং এই ব্যক্তিটি খুবই ঘনিষ্ঠ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৩

সালাহুদ্দীন আইউবি ও বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়


[সেদিন একটা বই পড়ছিলাম পাশে বসে থাকা বন্ধু জিজ্ঞেস করল বইটি কি নিয়ে লেখা? আমি উত্তর দিলাম সালাহুদ্দীন আইউবিকে নিয়ে লেখা। ও আমাকে জিজ্ঞেস করল, সে আবার কে?! ... বন্ধু আমার একজন  মুসলিম। কিন্তু সে সালাহুদ্দীন আইউবিকে চিনে না (!)।
জাতি আসলে সেই মহাপুরুষ দের ভুলে যেতে চলেছে যারা ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছে।
জাতি আসলে তাদের ভুলে কাদেরকে মনে রাখছে? তারা কাদের জীবনী পড়ছে?? কাদের সম্পর্কে জানছে ?? তাই ভাবলাম জাতিকে কিছু জানানো  যায় কিনা। তাই এই লেখাটা লেখা। যতটুকু পেরেছি সংক্ষিপ্ত করে লিখেছি। এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ] [ দয়া করে নিজে জেনে শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন ]



মহান আল্লাহ এই মহাজগতের সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ মানুষ সহ বহু প্রকারের প্রাণী, জীবজন্তুসৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে মানুষকে করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব। আর তাদের হাতেই ন্যাস্ত করেছেন পৃথিবীর পরিচালনার ভার। আর সঠিক উপায়ে পরিচালনার জন্য পৃথিবীর ঊষালগ্ন থেকেই সেখানে প্রেরণ করেছেন নবী-রাসুল যারা  মানুষের মাঝে আল্লাহর আইন-কানুন ও জীবন চলার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে সে অনুযায়ী চলতে মানুষকে সাহায্য করেছেন। আর নবী-রাসুলদের এই কাজের সাহায্যার্থে আল্লাহ তাদের অনেকের উপর প্রেরণ করেছেন আসমানি কিতাব এবং তাদের দিয়েছেন সর্বযুগের চিরন্তন আদর্শ ইসলাম। রাসুল (সাঃ) ছিলেন সেই নবী – রাসুলদের মধ্যে শেষ রাসুল যার পর আর কোন নবী বা রাসুল আসবেন না। কিন্তু মানুষের মাঝে আল্লাহর আইন-কানুন ও জীবন চলারপদ্ধতি পৌছিয়ে দিতে এবং সেগুলো সূক্ষ্মরূপে - সুশৃঙ্খল উপায়ে পালনের উদ্দেশ্যে সমগ্র পৃথিবীতে একক রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত খলীফাদের (আমির, ইমাম, সুলতান) দায়িত্ব দিয়েছেন। আর সেই ক্রমধারায় নবী-রাসুলের পর খলিফাগণ দাওয়া ও জিহাদের মাধ্যমে একের পর এক অঞ্চলে ইসলামকে পৌছিয়ে দিয়েছেন। সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি ছিলেন তেমনি একজন সুলতান যিনি ইসলামিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি বায়তুল মুকাদ্দাস ( ইহুদী-খৃষ্টানদের কথ্য মতে জেরুজালেম) ক্রুসেডারদের দ্বারা দখলের  প্রায় ৯০ বছর পর পুনরায় (হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর খিলাফতের সময়  সেটি ইসলামিক রাষ্ট্রের ছায়াতলে আসে) তাদের হাত থেকে মুক্ত করেন, এবং সেখানকার মুসলিম নাগরিকদের তাদের অত্যাচারের  হাত  থেকে  রক্ষাকরেন।


১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ। সালাহুদ্দিন আইউবি গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসর আগমন করেন।ফাতেমি খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলীফা তাকে এ-পদে নিয়োগ দিয়ে বাগদাদ থেকে প্রেরণ করেন।তার (দ্বাদশ শতাব্দীর) আগে থেকেই ইউরোপ, ফ্রান্স ও জার্মানি ইসলামিক রাষ্ট্রভাঙ্গার  জন্য  ক্রুশ ছুঁয়ে শপথ করে, ইসলামের নাম নিশানা মুছেদিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রুশের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু করে নানা চক্রান্ত। সেইসঙ্গে তারা চালায় সশস্র অভিযান। মুসলিমদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দখল করে রাখে  ইসলামের মহান স্মৃতি চিহ্ন  প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস।  


 সালাহুদ্দীন আইয়ুবি ছোটবেলায় গভর্নর নিজামুল মূলক এর মাদরাসায় জাগতিক ও আদর্শিক  পড়াশুনা ও যুদ্ধ বিদ্যায় জ্ঞান লাভ করেন।  রাজনীতি, কূটনীতি, ভূগোল, ইতিহাস,  পড়াশুনা ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ কৌশলের উপর গভীর জ্ঞান ও আগ্রহের কারণে চাচা  শেরেকাহ ও 
 নুরুদ্দীন জঙ্গী  তাকে স্পেশাল প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।  প্রশিক্ষণটি মূলত তৈরি হয় এক যুদ্ধের ময়দানে , যেখানে সালাহুদ্দিন আইউবি দীর্ঘকাল আবরোধের মধ্যেযুদ্ধ করেও হতাশ না হয়ে সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় সৈন্যদের নিয়ে যুদ্ধ করে ফিরে আসেন। এর পরই  নুরুদ্দীন  জঙ্গী  তাকে মিশরের গভর্নরের পদের জন্য মনোনীত করেন।


 সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীও চিন্তা চেতনায় ছিলেন সালাহুদ্দীন আইউবির মতই।  সেসময় যেখানে ইসলামিক খিলাফতের সব আমির, গভর্নর,  উজিররা খৃষ্টানদের চক্রান্তে পা দিয়ে তাদেরথেকে সুন্দরি মেয়ে ও প্রচুর ধনসম্পদ এবং মূলত ক্ষমতার লোভে ইসলামিক রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন হয়ার স্বপ্ন দেখত, ঠিক তখনই সালাহুদ্দীন আইয়ুবি ও নুরুদ্দীন জঙ্গী ইসলামিক খিলাফত রাষ্ট্রকে ইহুদী–খৃষ্টানদের চক্রান্ত থেকে মুক্ত করে বাইতুল মুকাদ্দাস কে সেই ক্রুসেডারদের থেকে মুক্ত করার জন্য একের পর এক জিহাদ করে গেছেন।


সালাহুদ্দীন আইয়ুবি মিশরের গভর্নর হয়ার পরই সর্ব প্রথম  সেখান থেকে খৃষ্টানদের চক্রান্তে পা দেয়া আমির উজিরদের সুকৌশলে সরকারী দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেন। এজন্য তাকে মারার জন্য ক্রুসেডারদের দালালরা অনেক ফন্দি আটার পরও তারা ব্যর্থ হয়। দালালরা অনেক সুন্দরী মেয়ে ব্যবহার করেও পাথরের মত সালাহুদ্দীনকে গলাতে পারেনি। যেখানে অন্যান্য আমিররা সানন্দেই তাদের গ্রহণ করত।  দালালরা সালাহুদ্দীনকে গলাতে না পেরে তাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে নিজেরা খমতায় বসার জন্য মিশরের সেনাবাহিনির মধ্যে থাকা সুদানি সেনাদের মধ্যে বিদ্রোহ করার চেষ্টা করে এই বলে যে তোমরা সুদানি তারা মিসরি। সুদানের বর্ডার মিশরের কাছে থাকাতে  বিদ্রোহের পর সেখান থেকে আক্রমণ করাও সহজ ছিল। কিন্তু সালাহুদ্দীন আইয়ুবি তার চৌকস গোয়েন্দা প্রধান আলি বিন সুফিয়ান কে দিয়ে সব তথ্য আগেই পেয়ে যান । আর খুবই কৌশলে তাদের বিদ্রোহ দমন করেন। এদিকে সেনা বিদ্রোহ করিয়ে দালালরা সম্রাট ফ্রাঙ্ককে আক্রমণ করার আগমনও জানায়। কিন্তু সালাহুদ্দীন আইউবি আগেই বিদ্রোহ দমন করেন, আর যখন পরে ফ্রাঙ্ক এর সেনাবাহিনী আসে তারা পুরোপুরিভাবে সালাহুদ্দীনের কাছে পরাজিত হয়। এই দিকে ফ্রাঙ্ক মিসরে আক্রমণ করলে সিরিয়া থেকে নুরুদ্দীন জঙ্গিও ফ্রাঙ্ক এর দেশে আক্রমণ করে বসেন। তাতে আক্রমনের খবর পেয়েই ফ্রাঙ্ক তার দেশে ফিরে যেয়ে দেখেন সেখানের চিত্রই বদলে গেছে। সব দিক দিয়েই ফ্রাঙ্কের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। 

বাগদাদের  খলীফা খলীফা আজেদ ও যখন ক্রুসেডারদের চক্রান্তে পা দেন তখন সালাহুদ্দীন আইউবি তাকে সুকৌশলে খিলাফতের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বাগদাদকে সিরিয়ার খিলাফতের অধীনে নুরুদ্দীন জঙ্গীর কাছে দিয়ে দেন , এতে করে খিলাফত রাষ্ট্র আবারো একটি রাষ্ট্রে পরিনত হয়। মূলত ক্রুসেডাররা ফাতেমি খলীফাকে মদ আর নারীতে ব্যাস্ত রেখে তাকে অধমে পরিণত করে, এমনকি সে সালাহুদ্দীন আইয়ুবিকে হত্যাও করার পরিকল্পনা করে। আর খলীফা হওয়া সত্ত্বেও তিনি সালাহুদ্দিন আইউবির উপর কথা বলতে ভয় পেতেন। চরিত্রের অধপতনের কারণেই মূলত এমনটি অনুভব করতেন তিনি। তাই তাকে সরিয়ে খিলাফতের দায়িত্ব একজনকে দেয়া ও একমুখী করা সালাহুদ্দীন আইয়ুবির পক্ষে সহজ হয়।  

সেকালে মাসজিদে জুময়ার খুৎবাতে আল্লাহর ও রাসুলের নামের পর  খলীফার নাম উচ্চারন করতে হতো। সালাহুদ্দীন আইয়ুবি জুময়ার খুৎবা থেকে খলীফার নাম উচ্চারন করা বাদ দিয়ে দেন।


 সুলতান আইয়ুবি যেখানে ক্রুসেডারদে আক্রমণ করে করে তাদের ইসলামিক রাষ্ট্রের দখলকৃত অঞ্চল থেকে বিতারিত করবেন, সেখানের মুসলিমদের তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিবেন,সেখানে ক্রুসেডাররা সারাক্ষণই তাদের গয়েন্দাদের ব্যবহার করে  মিসরে কোন না কোন সমস্যা তৈরি করে রাখত
।  যাতে করে সালাহুদ্দীন আইয়ুবি নতুন করে তাদের আক্রমনের সময় না পান, তিনি যেন মিসর ঠিক করতেই তার সকল সময় পার করে দেন। তারা প্রায়ই চেষ্টা করত সুদানি বাহিনী দিয়ে সুদান থেকে মিসরে আক্রমণ করাতে, যাতে সালাহুদ্দীন শুধু তাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকেন। তারা মিসরের বিভিন্ন মাসজিদে তাদের প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা ইমাম পাঠাত যারা সেখানে জিহাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে মানুষের ভিতর থেকে জিহাদের চেতনাকে ধ্বংস করতে চাইত। ক্রুসেডাররা মুসলিমদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করত মেয়েদের দিয়ে। তারা প্রায় সব আমিরদের কাছেই তাদের সুন্দরী মেয়েদের প্রেরণ করত, তাদের দিয়ে সেই আমির দের চরিত্র ধ্বংস করার পায়তারা করত। তারা জানত মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তাদের ঈমানী শক্তি  যেটা দিয়ে তারা ক্রুসেডারদের  সাথে লড়ে । আর সে শক্তির কাছেই তারা বার বার হারে, আর সে শক্তির বলেই তাদের চেয়েও অনেক কম পরিমাণ সৈন্যদিয়ে মুসলিমরা বার বার জয় লাভ করে।

ক্রুসেডাররা তাদের নিজেদের মেয়েদের কে মুসলিমদের চরিত্র হরণের প্রশিক্ষণ দিত। তারা এ কাজে সেসকল মেয়েদেরও ব্যবহার করত যাদেরকে তারা মুসলিমদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অপহরণ করে এনেছিল তাদের বাল্যকালে। তারা ক্রুশের স্বার্থে  এরূপ করাকে পুণ্য মনে করত।
 

 সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবি মিশরের স্থায়িত্ব আনার পরই আবার তার সেই বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার সপথ পুরন করার জন্য বের হয়ে যান।  তিনি সর্ব প্রথম খৃষ্টানদের ফিলিস্তিনের শোবক দুর্গ অবরোধ করে সেটা জয় করে ফেলেন। পরে নুরুদ্দীন জঙ্গীর সহায়তায় কার্ক দুর্গও জয়করেন
। কার্ক দুর্গ অবরোধ করার সময় সুদানিরা আবারো মিসরে সমস্যা তৈরি করতে চায় ক্রুসেডারদের সাহায্যে। পরে সুলতান আইয়ুবি কার্কের অবরোধ নুরুদ্দীন জঙ্গীকে  দিয়ে মিসরে চলে আসেন। পরে নুরুদ্দীন জঙ্গী কার্ক দুর্গ সহ ফিলিস্তিনের আরও কিছু জায়গা দখল সম্পন্ন করেন। 


 ফিলিস্তিনের শোবক ও কার্ক দুর্গ পরাজয়ের প্রতিশোধ স্বরূপ ক্রুসেডাররা পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয়। স্পেনের পূর্ণ নৌ বহর  এতে যুক্ত হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামও যুক্ত হয়। গ্রিস ও সিসিলির জঙ্গি কিশতিগুলও যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা ভাবতো তারা চাইলে একাই মুসলিমদের পরাজয় করতে পারে তাই তারা যুক্ত হতে চায় নি। কিন্তু তাদের পোপের অনুরধে তাদের কিছু যুদ্ধ জাহাজগুলও যুক্ত করে। ...... এদিকে  সুলতান আইয়ুবি গোয়েন্দা মারফত তাদের আগমনের খবর পেয়ে যান, তিনি এও জেনে যান যে তারা আগে এসে মিসরের উপকুলের আলেকজান্দ্রিয়া অঞ্চল দখল করবে। তাই সুলতান আলেকজান্দ্রিয়া থেকেসকল জনগণকে সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান এবং সেখানে ঘরগুলোতে মুসলিম
সৈন্য দিয়ে ভরে রাখেন। ক্রুসেডাররা যখন উপকুলে এসে ভিরে তারা পরে আক্রমণের জন্য কোন সৈন্য না দেখে খুশি হয়, এবং পরে হেসে খেলে উপকূলের আলেকজান্দ্রিয়া দখল করতে যায়। রাতে যখন তারা নগরীতে প্রবেশ করে তখনই সৈন্যরা ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে নিষ্পেষিত করে দেয়। ওই দিকে তাদের জাহাজগুলোতে যেই সৈন্যদেরকে রেখে এসেছিল তাদের উপর হঠাৎ পেছন থেকে সুলতান আইয়ুবির যুদ্ধ জাহাজ আক্রমণ করা শুরু করে। তারা মিনজানিকের  সাহায্যে বড় বড় আগুনের গোলা ও পাথর মারতে শুরু করে ক্রুসেডারদের জাহাজের উপর। ক্রুসেডাররা পালাতে থাকে জাহাজ নিয়ে এবং ধ্বংস হতে থাকে। ক্রুসেডারদের আরেকটা অংশ ফিলিস্তিন থেকে আক্রমনের জন্য আসলে সুলতান নুরুদ্দীন  জঙ্গী তাদের উপর আক্রমণ করে তাদের পরাজয় করে দেন। এই যুদ্ধ শেষে নুরুদ্দীন জঙ্গী সুলতান আইয়ুবিকে তার অধিকৃতঅঞ্চল দিয়ে সিরিয়ায় নিজ এলাকায় চলে যান।

সালাহুদ্দীন আইয়ুবির যুদ্ধ কৌশলের সবচেয়ে ভয়ানক কৌশল ছিল তার গেরিলা হামলা। তার সৈন্যরা গেরিলা বাহিনী দিয়ে শত্রুদের সেনা বহরের পেছনের অংশে আঘাত হরে নিমিষেই হারিয়ে যেত। তার এই কৌশল আজো সামরিক বিশ্লেষকরা প্রশংসা করে।


 ১১৭৪ সালের মে মাসে নুরুদ্দীন জঙ্গী মৃত্যু বরন করেন। তার মৃত্যুতে নেমে এসে শোকেরছায়া। সালাহুদ্দীন আইয়ুবি হারান তার প্রান প্রিয় চাচাকে জিনি বরাবরই তাকে সাহায্যদিয়ে আসতেন বিভিন্ন সময়ে। ক্রুসেডাররা খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। কারন তারা এখন সালাহুদ্দীন আইয়ুবির সাথে আগের চেয়ে কম কষ্টে লড়তে পারবে।  জঙ্গীর মৃত্যুর পর তার মাত্র ১১ বছরের  নাবালেক  ছেলেকে ক্রুসেডারদের গাদ্দাররা ক্ষমতার লোভে খিলাফতের মসনদে বসায়। যদিও মাত্র ১১ বছরের নাবালেগ ছেলেকে খলীফা হিসেবে মসনদে বসানো সকলের জন্য হারাম, তবুও তারা ক্ষমতার জন্য এটা করে। এতে নুরুদ্দীন জঙ্গীর স্ত্রী রোজি খাতুন অনেক বাধা দিলেও তারা তা অমান্য করে। রোজি খাতুনও ছিলেন মুলত তার স্বামীর মতোই একজন খাটি ইমানদার। যিনি এই অন্যায় মেনে নিতে না পেরে সালাহুদ্দীন আইয়ুবিকে চিঠি লিখেন এই বলে যে, উনি যেন এসে সিরিয়া দখল করেন।


এদিকে সালাহুদ্দীন আইয়ুবি আসবেন জেনে রোজি খাতুন সেখান কার জনগণকে  বুঝাতে থাকেন যে একজন নাবালেগকে  খলীফা হিসেবে মানা হারাম। আর এ কাজ গাদ্দাররা  একারনে করেছে যাতে করে তারা তার নাবালক  ছেলেকে দিয়ে ভুল বুদ্ধি দিয়ে সব করিয়ে নিতে পারে।

একদিন সালাহুদ্দীন  আইয়ুবি মাত্র ৭০০ সৈন্যনিয়েই সিরিয়ার মুল দুর্গ অবরোধ করেন। এতে সিরিয়ার জনগন খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং তারা সালাহুদ্দীন আইয়ুবিকে ভিতরে আসতে দেয়ার জন্য নগরীর মুল ফটক খুলে দিতেবলে। তারা বাধ্য হয়ে ফটক খুলে দিলে সালাহুদ্দীন আইয়ুবি ভিতরে প্রবেশ করে। সকলেতাকে স্বাগত জানায়।

এদিকে  সুলতান আইয়ুবির  আগমনের খবর পেয়ে সকল আমলা- উজিররা  দামেস্ক ছেড়ে পালিয়ে যায়। নুরুদ্দীন জঙ্গীরছেলেও পালিয়ে যায়। সাথে করে তারা প্রচুর মূল্যবান সম্মত্তি ও প্রচুর দিরহাম নিয়েযায় আর সাথে করে খৃষ্টানদের দেয়া মেয়েগুলোও নিয়ে যায়।  তারা সিরিয়ার অদূরে হালব, হাররান ও মাশুলদুর্গে যেয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে খৃষ্টানদের প্রভাব থাকায় তারা নিরাপদেই থাকতে শুরুকরে।

সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীর মৃত্যুর পর যখন সালাহুদ্দীন আইয়ুবি সিরিয়া মিশরকে এক করেদেন, তখন থেকেই তিনি মিসরের গভর্নর থেকে সেই সালতানাতে ইসলামিয়ার সুলতান হন। তখন থেকেই তাকে সুলতান উপাধিতে ডাকা হয়।  
হালব ও মাসুলে আশ্রয় নেয়া আমিররা ক্রুসেডারদের সাথে আতত করে সুলতান আইয়ুবিকে পরাজিত করে পুনরায় সিরিয়া দখল করের ফন্দি আটে। এতে ক্রুসেডাররাও তাদের সাহায্য করতে থাকে। সুলতান আইয়ুবি যেন নিজেদের মুসলিম ভাইদের সাথেই যুদ্ধ করতে করতে শেষহয়ে যান সেই লক্ষ্যে ক্রুসেডাররা হালব, মাসুল ও আশে-পাসের  আমিরদের সালাহুদ্দীন এর বিরুদ্ধে উদবু‍‌দ্ধ করতে থাকে
। তাদের সাহায্য করতে থাকে। তারা সেখানকার মুসলিম জনগণদের গোয়েন্দা মারফত বিভ্রান্ত করতে থাকে। তাদের বুঝাতে থাকে সুলতান সালাহুদ্দীন অত্যাচারী, নির্দয়শাসক।

পরে বহু দিন যাবত সুলতান আইয়ুবি বায়তুল মুকাদ্দাসের বাঁধা স্বরূপ সেই কথিত মুসলিম আমিরদের  সাথেই যুদ্ধ করতে থাকেন। ক্রুসেডাররা সেই আমিরদের প্রচুর ধন-সম্পত্তি ও সুন্দরী মেয়ে দিয়ে রেখেছিল। আর ক্ষমতার নেশা সে সকল আমিরদের জেকে বসেছিল।

একদিন মরহুম সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীর ছেলে প্রচুর মদ্য পানের ফলে ভুগে ভুগে মৃত্যুবরন করে। তাকে দেখার জন্য তার মা রোজি খাতুন আর কখনো যান নি।


 অতঃপর অনেক দিন পর অনেক যুদ্ধ ও অনেক কষ্টের পর সুলতান আইয়ুবি হালব, মাসুল ওহাররান দখল করে নেন।  তখন সেখানকার মুসলিমরাই তাদের আমিরদের বিরুদ্ধে সালাহুদ্দীন এর জন্য দরজা খুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলে, পরে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এতে সুলতানের নিজেদের সাথে যুদ্ধকরেই প্রচুর মুসলিম সৈন্য শেষ হয়ে যায়। ক্রুসেডারদের গাদ্দার আমিরগুলোও তাদের সৈন্যদের এই বলে যুদ্ধে নিত যে, সালাহুদ্দীন ক্রুসেডারদের সাথে আতত করেছে , আর আমরাই প্রকৃত ইসলামের পথে আছি।

হালব, হাররান আর মাসুল দুর্গ জয়  করার পরসালাহুদ্দীন আইয়ুবির সামনে বাইতুল মুকাদ্দাসের পথে আর কোন বাধা রইলনা।


সুলতান আইয়ুবির এইবার বাইতুল মুকাদ্দাস এরদিকে আগমনের পালা। ক্রুসেডাররা এইবার আর মুসলিমদের থেকে সাহায্য পাবে না। কারন সব আমিরই এখন সালাহুদ্দীন আইয়ুবির আনুগত্য শিকার করেছে।  সুলতান আইয়ুবি এইবার সর্ব প্রথম কার্ক আক্রমণ করেন। সালাহুদ্দীন আইয়ুবি এর আগেও একবার কার্ক দখল করেন কিন্তু ১ মাস পর সেটা আবারো ক্রুসেডারদের হাতে চলে যায়। কার্কের শাসনভার ছিল  অরনাত এর উপর। অরনাত একজন নাস্তিক ছিল যে রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপ করত, তাই সুলতান তাকে ঘৃণা করতেন আর তাকে কাছে  পেলেই হত্যা করবেন   বলে শপথ নিয়েছিলেন। অরনাত মিসর আর সিরিয়ার হজ্ব কাফেলাগুলোর উপর হামলা করে তাদের সম্পত্তি ডাকাতি করত, আর মেয়েদের তুলে নিত।

সুলতান আইয়ুবি কার্ক আক্রমণ করলেন। কিন্তু তিনি সেটা অবরোধ না করে শত্রু যেন তার ইচ্ছা মত এলাকায় এসে যুদ্ধ করতে বাধ্য হয় সেই পরিবেশ তৈরি করলেন। তিনি শত্রুর সকল রসদ বন্ধ করে তাদের পানির উৎস গুলো দখল করলেন আর তাদের পানির তৃষ্ণায় যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাগল করে ফেললেন। ক্রুসেডাররা বর্ম পরে যুদ্ধে আসতো আর তিনি যুদ্ধের সময় ঠিক করলেন জুন-জুলাই মাসে, এতে তারা বর্মের ভিতর উত্তাপে জ্বলে-পুড়ে মরতে লাগলো। তাদের পরাজয় হল। সুলতান কার্ক ও আশে পাসের দুর্গ জয় করে নিলেন। সেই যুদ্ধে অরনাত সহ মোট ছয় জন সম্রাট ধরা পরে। সুলতান পরে তার শপথ মত অরনাত কে হত্যা করে বাকিদের ক্ষমা করে দেন।

এই যুদ্ধে ক্রুসেডাররা তাদের সবচেয়ে বড় ক্রুশটা (তারা ভাবে এইটাতেই ইসা (আঃ) কেশূলে চড়ানো হয়েছিল) যুদ্ধের ময়দানে এনেছিল। তাদের সবচেয়ে বড় পাদ্রি (পোপ)  এটা আনে। পরে পোপ মৃত্যু বরণ করে আর বড় ক্রুশটি মুসলিমদের হাতে চলে আসে
। পরে সুলতান ক্রুসেডারদের তাদের ক্রুশটি দিয়ে দেন। 

এরপর পালা আক্রার দুর্গের । ক্রুসেডাররা ভেবেছিল সুলতান আগে বায়তুল মুকাদ্দাস আক্রমণ করবেন। তাই তারা বুঝে উঠার আগেই সুলতান আগে আক্রা আক্রমণ করলেন। ২-৩ দিন অবরোধের পর সেটা জয় করে ফেলেন।

তারপর সুলতান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ আসকালান অবরোধ করেন। প্রায় ৩৪ টি বছর পরএই অঞ্চলটি আবার স্বাধীন হল। ১১৫৩ সালের ১৯ এ সেপ্টেম্বর সম্রাট ফ্রাংক এটি দখলকরে নেয়। আসকালান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত।


 এইবার পালা বায়তুল মুকাদ্দাসের ..........  
ক্রুসেডারদের দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দখল হয় ১০৯৯ সালের ১৫ জুলাই মতাবেক ৪৯২হিজরীর ২৩ শাবান । ক্রুসেডাররা বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে মুসলিম শাসকদের সহায়তায়। সেসময় মুসলিম শাসকরা নিজেদের রাজ্য চলে যাবে বিধায় সকলেই একে একে ক্রুসেডারদের পথ ছেড়ে দেয়, কেউই তাদের বাধা দেয় না। বরং অনেকেই তাদের সাহায্য করে, রসদ দেয়।

শুধু আরাকার আমির ছিলেন একজন  ইমানদার পুরুষ, যার সামরিক শক্তি খৃষ্টানদের তুলনায় কিছুই ছিল না। তবু তিনি খৃষ্টানদের দাবি পুরন করতে অস্বীকৃতি জানান
। খৃষ্টান বাহিনি আরাকা ১০৯৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। মুসলিমরা এমন প্রান পন লড়াই করে যে বিপুল ক্ষতির পর ক্রুসেডাররা পথ পরিবর্তনকরে চলে যায়।

মুসলিম আমিরগনই সে সময়য় ক্রুসেডারদের নিরাপদে বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছে দিয়েছিল। পরে ১০৯৯ সালের ৭ জুন তারা বায়তুল মুকাদ্দাস আবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই বায়তুল মুকাদ্দদাসের ভিতরে প্রবেশ করে। সে সময় বায়তুল মুকাদ্দাসের গভর্নর ছিলেন ইফতেখারুদ্দৌলাহ, তিনি প্রানপন লড়াই করেছিলেন ক্রুসেডারদের সাথে। কিন্তু তাদের রসদ ও সৈন্য অগণিত হয়ায় তিনি বার্থ হয়েছিলেন। পরে ক্রুসেডাররা নগরীতে ঢুকে সব মুসলিমদের হত্যা করে, তাদের নারীদের অত্যাচার করে, শিশুদের মাথা কেটে সেটা দিয়ে ফুটবল খেলে। মুসলিমরা আস্রয়ের জন্য মাসজিদুল আকসা ও অন্যান্য মাসজিদে যায় তারা ভাবে মাসজিদুল আকসা উভয়ের নিকট সম্মানিত হয়ায় তারা তাদের ছেড়ে দিবে। কিন্তু না ক্রুসেডাররা সেখানে ঢুকে মুসলিমদের  হত্যা করে,  তাদের রক্ত  মাসজিদ গড়িয়ে গড়িয়ে বাইরে পরছিল, রক্তে খৃষ্টানদের ঘোরার পা ডুবে গিয়েছিল। খৃষ্টান ঐতিহাসিকদের মতে উদ্বাস্তু মুসলিমের সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার। 


সুলতান আইয়ুবি বায়তুল মুকাদ্দাসের সেই অবমাননার কাহিনী তার পিতা নাজমুদ্দিন আইউব থেকে শুনতেন , নাজমুদ্দিন তার পিতার কাছ থেকে শুনতেন। পরে সুলতান এই কাহিনী তার নিজের ছেলেদের বলতেন।

১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার মতাবেক ৫৮৩ সনের ১৫ রজব  সুলতান আইয়ুবি দ্রুত বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছে যান, অবরোধ করেন বায়তুল মুকাদ্দাস। এদিকে খৃষ্টানরাও তাদের পবিত্র ভুমি ছাড়তে নারাজ। তারাও আমরন লরাইয়ের জন্য প্রস্তুত। সেখানকার প্রায় সব মুসলিমই বন্দি। তারা জেলের ভিতর থেকেই আজান আর তাকবীর ধ্বনি দিচ্ছেন। অনুরূপ খৃষ্টানরাও গির্জায় গান গাইছে ও প্রার্থনা করছে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। দুই পক্ষই দুই পক্ষকে আহত নিহতকরে চলছে। শহিদদের সংখ্যা গোনে সুলতান আইয়ুবি টাস্কি খেয়ে যান। পরে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ৫৮৩ হিজরীর ২৭ রজব মোতাবেক ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ ২ অক্টোবর শুক্র বার সালাহুদ্দীন আইয়ুবি বিজয়ী বেশে বায়তুল মুকাদ্দাস প্রবেশ করেন। এটিই ছিল সেই রাত যেদিন আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সাঃ) বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে মিরাজে গমন করেন।
J J

বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হয়ার পর সেখানকার মুসলিমরা প্রায়  ৯০ বছর পর ক্রুসেডারদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেল।



ইংল্যান্ডের সম্রাট রিচার্ড যাকে ''ব্লাক প্রিন্স'' বলা হত সে এর প্রতিশোধ নিতে  ৫২০ যুদ্ধ জাহাজ ও অনেকগুলো মালবাহী বড় জাহাজ নিজে রোম সাগর আসে। তখনই  ঝড়ের কবলে পরে প্রায় অনেক জাহাজ তলিয়ে যায়। যা বাকি থাকে তা দিয়েই সে বায়তুল মুকাদ্দাস আবার দখল করতে আসে। তখন তার সৈন্য ছিল ২লাখ।

সুলতান চাচ্ছিলেন তারা যেন আগে উপকূলীয় অঞ্চল আক্রা অবরোধ করে, এতে করে তাদের সেখানেই ব্যস্ত রেখে শেষ করে দিতে পারলে বায়তুল মুকাদ্দাস রক্ষা করা যাবে।

রিচার্ড যখন আক্রা আগমন করে  তারও আগেই তার জোট ভুক্ত রাষ্ট্ররা আক্রা অবরোধ করে। রক্ত ক্ষয়ী ও দীর্ঘ যুদ্ধের পর সকলে মিলে প্রায় ৬ লাখেরও বেশি সৈন্য নিয়ে আক্রা দখল করে নেয়। এতে তারা দখলের পর আক্রার প্রায় ৩ হাজার নিরস্র মুসলিমের  হাত পা বেধে পিচাশের মত ঝাপিয়ে পরে হত্যা করে।

রিচার্ড আক্রা দখলের পর উপকূলীয় বাকি অঞ্চল আসকালান ও হিফা দখল করতে যায়, যেন সেগুলোকে দখল করে ক্যাম্প বানিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করা সম্ভব হয়। কিন্ত তারা যেন সেটা করতে না পারে তার জন্য সুলতান আইয়ুবি আগেই সেখান থেকে জনগনকে  সরিয়ে সেগুলোকে পোড়ে  ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন। পড়ে ক্রুসেডাররা সেখানে যেয়ে আর কিছু পায় নি। শেষে একসময় রিচার্ড অসুস্থ হয়ে পরলে সে যুদ্ধ ত্যাগকরে নিজ দেশে চলে যায়, আর বলে যায় সে আবার আসবে বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করতে। কিন্তু পরে আর কেউ পারেনি বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করতে।



কিন্তু না, ইসলামিক খিলাফতের শেষের দিকে যখন মুসলিম আমিররা ক্রুসেডারদের সাথে বন্ধুত্বের কথা বলে মূলত তাদের দাসত্বকে গ্রহণ করল। তখনই ক্রুসেডাররা আবারো তুচ্ছ ও সংকীর্ণমনা  জাতীয়তাবাদের নীতিতে ইসলামিক রাষ্ট্রকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দিল। আবারো ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিনে ইহুদীদের প্রবেশের মাধ্যমে মূলত নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করল। সেখানে মুসলিমদের হত্যা করল, তাদের নিজ ভুমি থেকে ছাড়া করল, গঠন করল সেখানে ইসরাইল রাষ্ট্র, আর সেটা কতিপয় নাম ধারি মুসলিম শাসকদের কারনেই সম্ভব হয়েছিল।


সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবি তার জীবনে দুটো ইচ্ছা করেছিলেন এক বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করা আর  দুই হজ্ব করা। যদিও তিনি প্রথম ইচ্ছা  পুরন করতে পেরেছিলেন কিন্তু তার দ্বিতীয় ইচ্ছা অর্থের  অভাবে পুরন হয়নি। মিসরি কাহিনীকার মুহাম্মদ ফরিদ আবু হাদীদ লিখেছেন, মৃত্যুর সময় সালাহুদ্দীন  আইউবির মাত্র ৪৭ দিরহাম রূপা আর এক টুকরো সোনা ছিল। তার নিজস্ব কোন বাসগৃহ ছিল না। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোন অর্থ নিয়ে হজ্ব করতে চান নি।

১১৯৩ সালের ৪ মার্চে অবশেষে ইসলামের মহান নেতা সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবি ইন্তিকাল করেন। সেদিন সমগ্র ফিলিস্তিনের নারী-পুরুষ তাদের ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে তাদের সুলতানের জন্য মাতম করছিল। নগরীর অলিতে-গলিতে  কান্নার রোল বয়ে যাচ্ছিল। আজও সেই কান্নার রোল শোনা যায় সেই ফিলিস্তিনের অলিতে গলিতে আজও তারাতাদের সেই সালাহুদ্দীন আইয়ুবিকেই খুজছে ক্রুসেডারদের অত্যাচার থেকে তাদের মুক্তিরজন্য
।    

অবশেষে ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ ক্রুসেডাররা ইসলামের সর্বশেষ খিলাফত থাকা অঞ্চল তুরস্ক থেকেও রাষ্ট্রীয় ভাবে থাকা খিলাফতকে ধ্বংস করল। লর্ড কার্জন বলল, আমরা মুসলিমদের মেরুদণ্ড খিলাফতকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তারা আর দাড়াতে পারবে না । তারা সেই সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবির কবরে  লাথি মেরে বলল, উঠো সালাহুদ্দীন, তোমার বায়তুল মুকাদ্দাসকে রক্ষা কর। ....... আর আমরা কি করলাম?  পেরেছি কি সেই খিলাফতকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে?  পেরেছি কি সেই বায়তুল মুকাদ্দাস কে রক্ষা করতে?
 

by Rashedul Islam (Notes) on Wednesday, 22 May 2013 at 21:08
[রেফারেন্সঃ ইমানদীপ্ত দাস্তান ...... এনায়াতউল্লাহ আলতামাশ, প্রখ্যাত উর্দু উপন্যাসিক]

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

লিবারাল ও সেক্যুলার মুসলিম শিক্ষাবিদ !


RAND Corporation কে মনে হয় তেমন কেউই চেনেন না। অল্প কথায়, ভদ্রভাবে, চেনাতে গেলে বলতে হবে, ইউ.এস.এ এর সরকার ও সামরিক শক্তির গতিধারা নির্ধারণে নেপথ্যের 'বুদ্ধিজীবী' হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আমেরিকার, ওয়ার এগেইনস্ট টেররিসম এ এরা খুবই সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে। খুবই লো প্রোফাইল এই প্রতিষ্ঠানটির। এদের ওয়েব সাইটে গেলে কেউ ধারনাও করবে না যে, এক হিসাবে, বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি এটি।

প্রতিষ্ঠানটি ইসলামিস্ট সমাজের দৃষ্টিগোচরে আসে মূলত শহীদ আনওয়ার আল আওলাকির বিখ্যাত বক্তৃতা "ব্যাটল অফ হার্টস এন্ড মাইন্ডস" এর মাধ্যমে। বক্তৃতায় আনওয়ার আল আওলাকি, ইউ.এস.এ এর সরকারের জন্য রেন্ড কর্পোরেশনের তৈরী করা একটি 'রোড ম্যাপ' কে তুলে ধরেন। 'বিল্ডিং মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক' নামে এই রোড ম্যাপটিতে মূলত মুসলিম বিশ্বে 'ইসলাম কেন্দ্রিক' জাগরণ ঠেকাতে মার্কিন সরকারেরে কি কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত তার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটা কোনো গোপন ডকুমেন্ট নয়, ইন্টারনেট এ পাওয়া যায়। নিচে পিডিএফ এর লিংক দিচ্ছি।

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি: 'ধর্মনিরেপক্ষতা' 'জাতীয়তাবাদ' ইত্যাদি চেতনার জোয়ার, স্যেকুলারিজ্ম এর জয়গান, সেক্যুলার ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রচার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, নাস্তিকতাবাদের সন্মাননা, ইসলাম ভিত্তিক আন্দোলনের বৈরী প্রচারণা, বিকৃত ইসলামের ( কাদিয়ানী ও আরো অন্যান্য ) স্বীকৃতির প্রচারণা ইত্যাদি মাথায় রেখে ডকুমেন্টটাতে উঁকি দিলে 'ধাক্কা' খাবেন।

মার্কিন সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছেন, 'ইসলাম' কি সেটা আমাদের শেখাতে। মুর্খ মুসলিম বিশ্ব কি আর জানে ইসলাম কি? তাই আজ ক্রুসেডারদের বংশধররা দ্বায়িত্ব নিয়েছে মুসলিম বিশ্বকে ইসলামিক করতে।

ডকুমেন্টটা শুরু হয় এভাবে, "যে আন্দোলন এই মুহুর্তে মুসলিম বিশ্ব জুড়ে চলছে তা মূলত আদর্শের সংঘাত ..."

পৃষ্ঠা ৬৬ তে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে একজন 'মডারেট মুসলিম' এর। ইসলামী শরীয়াকে আইনের মূল উত্স না মানাকে একটি শর্ত ধরা হয়েছে।

পৃষ্ঠা ৭৮ এ বলা হয়েছে কিভাবে সমাজের 'মডারেট মুসলিম' দের সাহায্য করা হবে। লিবারাল ও সেক্যুলার শিক্ষাবিদদের ও একটিভিস্টদের সর্বাত্মক সহযোগীতা দেয়া হবে।

সামারি পৃষ্ঠা xxii তে বলা হয়েছে কাদের কে পার্টনার হিসাবে নিতে হবে। লিবারাল ও সেক্যুলার মুসলিম শিক্ষাবিদ, মডারেট জার্নালিস্ট ও রাইটার, ইয়াং মডারেট ইসলামিক স্কলার, কমিউনিটি একটিভিস্টদের ইত্যাদি।

আসলে প্রতি পৃষ্ঠাতেই চমক আছে। খুবই পরিষ্কার ভাবে দেখতে পারবেন, যে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে যা ঘটছে, যেভাবে ঘটছে, তা এই ডকুমেন্টর 'নকশা' অনুযায়ীই ঘটছে।

পড়তে চাইলে,

http://www.rand.org/content/dam/rand/pubs/monographs/2007/RAND_MG574.pdf"RAND Corporation কে মনে হয় তেমন কেউই চেনেন না। অল্প কথায়, ভদ্রভাবে, চেনাতে গেলে বলতে হবে, ইউ.এস.এ এর সরকার ও সামরিক শক্তির গতিধারা নির্ধারণে নেপথ্যের 'বুদ্ধিজীবী' হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আমেরিকার, ওয়ার এগেইনস্ট টেররিসম এ এরা খুবই সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে। খুবই লো প্রোফাইল এই প্রতিষ্ঠানটির। এদের ওয়েব সাইটে গেলে কেউ ধারনাও করবে না যে, এক হিসাবে, বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি এটি।

প্রতিষ্ঠানটি ইসলামিস্ট সমাজের দৃষ্টিগোচরে আসে মূলত শহীদ আনওয়ার আল আওলাকির বিখ্যাত বক্তৃতা "ব্যাটল অফ হার্টস এন্ড মাইন্ডস" এর মাধ্যমে। বক্তৃতায় আনওয়ার আল আওলাকি, ইউ.এস.এ এর সরকারের জন্য রেন্ড কর্পোরেশনের তৈরী করা একটি 'রোড ম্যাপ' কে তুলে ধরেন। 'বিল্ডিং মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক' নামে এই রোড ম্যাপটিতে মূলত মুসলিম বিশ্বে 'ইসলাম কেন্দ্রিক' জাগরণ ঠেকাতে মার্কিন সরকারেরে কি কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত তার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটা কোনো গোপন ডকুমেন্ট নয়, ইন্টারনেট এ পাওয়া যায়। নিচে পিডিএফ এর লিংক দিচ্ছি।

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি: 'ধর্মনিরেপক্ষতা' 'জাতীয়তাবাদ' ইত্যাদি চেতনার জোয়ার, স্যেকুলারিজ্ম এর জয়গান, সেক্যুলার ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রচার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, নাস্তিকতাবাদের সন্মাননা, ইসলাম ভিত্তিক আন্দোলনের বৈরী প্রচারণা, বিকৃত ইসলামের ( কাদিয়ানী ও আরো অন্যান্য ) স্বীকৃতির প্রচারণা ইত্যাদি মাথায় রেখে ডকুমেন্টটাতে উঁকি দিলে 'ধাক্কা' খাবেন।

মার্কিন সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছেন, 'ইসলাম' কি সেটা আমাদের শেখাতে। মুর্খ মুসলিম বিশ্ব কি আর জানে ইসলাম কি? তাই আজ ক্রুসেডারদের বংশধররা দ্বায়িত্ব নিয়েছে মুসলিম বিশ্বকে ইসলামিক করতে।

ডকুমেন্টটা শুরু হয় এভাবে, "যে আন্দোলন এই মুহুর্তে মুসলিম বিশ্ব জুড়ে চলছে তা মূলত আদর্শের সংঘাত ..."

পৃষ্ঠা ৬৬ তে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে একজন 'মডারেট মুসলিম' এর। ইসলামী শরীয়াকে আইনের মূল উত্স না মানাকে একটি শর্ত ধরা হয়েছে।

পৃষ্ঠা ৭৮ এ বলা হয়েছে কিভাবে সমাজের 'মডারেট মুসলিম' দের সাহায্য করা হবে। লিবারাল ও সেক্যুলার শিক্ষাবিদদের ও একটিভিস্টদের সর্বাত্মক সহযোগীতা দেয়া হবে।

সামারি পৃষ্ঠা xxii তে বলা হয়েছে কাদের কে পার্টনার হিসাবে নিতে হবে। লিবারাল ও সেক্যুলার মুসলিম শিক্ষাবিদ, মডারেট জার্নালিস্ট ও রাইটার, ইয়াং মডারেট ইসলামিক স্কলার, কমিউনিটি একটিভিস্টদের ইত্যাদি।

আসলে প্রতি পৃষ্ঠাতেই চমক আছে। খুবই পরিষ্কার ভাবে দেখতে পারবেন, যে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে যা ঘটছে, যেভাবে ঘটছে, তা এই ডকুমেন্টর 'নকশা' অনুযায়ীই ঘটছে। --------------
Mohammad Bhuyan
পড়তে চাইলে,
visit:
http://www.rand.org/content/dam/rand/pubs/monographs/2007/RAND_MG574.pdf"

শনিবার, ৪ মে, ২০১৩

অসাম্প্রদায়িক চরমপন্থা


দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত ক্ষুদ্র দেশ বাংলাদেশ। ভৌগলিকভাবে যার অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বে ইন্দোনেশিয়া আর পাকিস্তানের পর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে এই দেশে। ১৫০ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ৮৫% জন্মসূত্রে মুসলিম। যদিও এখন এই দেশে ধীরে ধীরে ইসলাম আর মুসলিমরা যেনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে চলেছে।

যদিও পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু আর মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও ধর্ম পালনে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না; অথচ এই অধিকার কেড়ে নেয়াই যেনো বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর অতি তৎপরতার সাথে এই দেশকে অসাম্প্রদায়িক/ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিতি দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। খুবই শক্তিশালী নিরীক্ষা আর উপাত্ত থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান সরকার দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ করার সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের ভূ-খন্ড থেকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে ইসলামের বিস্তারকে রোধ করা। ন্যুনতম ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি এমন কর্মপরিকল্পনা- যা আগ্রাসী এবং ভয়ংকর। তথাপি যদিও দেশে গণতান্ত্রিক শাসণব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু দিনে দিনে গণতান্ত্রিক নীতিমালা, আইনপ্রণয়ন, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় রাজনীতি; প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোরতর নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যা তাদের নিজেদের মানদন্ডেই যা অসারতা আর অচলাতয়নের সৃষ্টি করবে।

এবার সরকারের শাসণামলে সংঘটিত কিছু ইসলামবিদ্বেষী কর্মকান্ড তুলে ধরতে চাই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
  • সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা বাদ দেয়া ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপন,
  • কুরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি প্রণয়ন
  • ইসলামবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি চালু,
  • বোরকাবিরোধী রায় ও পরিপত্র জারি,
  • সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ইসলামবিরোধী বক্তব্য,
  • আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন মহলের কটূক্তি,
  • আলিমদের উপর নির্যাতন,
  • দাড়ি-টুপি ও বোরকাধারীদের হয়রানি,
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড,
  • জিহাদি বইয়ের নামে অপপ্রচার,
  • ইসলামী রাজনীতি দমন ও মাদরাসাবিরোধী ষড়যন্ত্র,
  • চট্টগ্রামে নার্সিং ইনস্টিউটে হিজাব পড়তে বাধা দেয়া এবং নামাজ কক্ষে প্রবেশ করে দম্ভোক্তি,
  • ছাত্রীসংস্থার হিজাব পরিহিতা মুসলিমাহদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন,
  • চট্টগ্রামের কাতালশাহ্ মাসজিদে পুলিশের জুতা পায়ে প্রবেশ এবং নামাজরত মুসল্লিকে গ্রেপ্তার করা,
  • সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মাজারপূজা,
  • মসজিদের সামনে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়ন,
  •  সরকারী জামে মসজিদের খতিব পরিবর্তন,
  • কুরআনের বিরুদ্ধে মামলা,
  • টুঙ্গিপাড়া আর ধানমন্ডি স্কুলের শিক্ষকদের রাসুলুল্লাহকে নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি,
  •  ইসলামিক ফাউন্ডেশান থেকে মিথ্যাচার ও দ্বীনবিকৃতিমূলক বইয়ের প্রকাশণা,
  • ইসলাম শিক্ষা বইয়ের নাম পরিবর্তন,
  • উপজাতি মুসলিমদের খ্রিস্টান মিশনারীর হাতে তুলে দেয়া,
  • ছাত্রলীগের কুরআন নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়াসহ আরো অসংখ্য দ্বীনবিরোধী কার্যকলাপ।

ইসলামবিরোধী উক্তি:


  • কুত্সিত চেহারা ঢাকতেই মেয়েরা বোরখা পড়ে । -ডেপুটি স্পিকার শওকত ।
  • বঙ্গবন্ধু মদ জুয়া হারাম করেছিলেন । -নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান ।
  • গ্রামে গন্জে ইসলামিক জালসা বন্ধ করতে হবে । -পঙ্কজ কুমার
  • মেয়েদেরকে বোরকার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে তাদেরকে নাচ গানের শিক্ষা দিতে হবে । -হাছান মাহমুদ
  • সেনাবাহিনী থেকে ইসলামপন্থীদেরকে বিতাড়িত করতে হবে । -জয় ।
  • রাসুল সাঃ হিন্দুদের পূজার জন্য মসজিদের অর্ধেক জায়গা ছেড়ে দিয়েছে । -ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ।
  • জোর করে মেয়েদের বোরখা পরানো যাবে না । -হাইকোর্ট
  • আমি মুসলমান ও নই,হিন্দু ও নই । -সৈয়দ আশরাফ ।
  • মা দুর্গা গজে চরে এসেছে বলে ফলন ভাল হয়েছে । -শেখ হাসিনা
  • সংবিধান থেকে ধর্মের কালো ছায়া মুছে ফেলা হবে। - সাজেদা চৌধুরী
  •  ধর্ম তামাক ও মদের মতো একটি নেশা। - পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী
  • ‘কওমী মাদরাসাগুলো এখন জঙ্গিদের প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কওমী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছে। এসব কওমী মাদরাসায় যে শিক্ষা দেয়া হয়, তা কূপমণ্ডূকতার সৃষ্টি করছে। ’৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসনামলে বিভিন্ন সংশোধনী এনে ’৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে নস্যাত্ করার ফলেই এবং ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার পর ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে।’- আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ

  • ‘পৃথিবীতে যত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রয়েছে, তার সবই ইসলাম ও মুসলমানদের মধ্যে (!)। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নয়।’ -শামীম মোহাম্মদ আফজাল


এছাড়াও ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ অব্যাহত ছিলো আর এই ধারাকে শক্তিশালী করতে নতুন নতুন টিভি চ্যানেল খোলা হয়েছে। অতি সম্প্রতি, কালের কন্ঠ আর প্রথম আলোতে পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ভ্রান্ত কাদিয়ানীদের বিজ্ঞাপন একটি উদাহরণ। আর, ইন্টারনেটজুড়ে বিভিন্ন ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ আর সাইটে এই ধারা অব্যাহত ছিলো। বিশেষ করে ধর্মকারী, নাগরিক ব্লগ, সামহ্যোয়ার ইন ব্লগসহ অসংখ্য ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ আর সাইটের উত্থান হয়েছে এই সরকারেরই পৃষ্ঠপোষকতায়; যারা অশ্লীল, অশ্রাব্য, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে ইসলামকে নিয়ে।


আর এই সরকার তাদের তৎপরতাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় ধর্মীয় মৌলবাদের উৎখাত হিসেবে; অথচ ধর্মীয় মৌলবাদ নির্মূলের নামে তারা যে কর্মসূচী তাই বরং অনেক বেশী উগ্র আর আগ্রাসী। আর এ ভয়ংকর ধর্মনিরপেক্ষবাদ অর্জনের প্রচেষ্টা- যা ৯/১১ পরবর্তী বিশ্বে রাজনীতি আর সমাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব বিস্তারকে রোধ করার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ারই অংশ।যা এক কথায় অসাম্প্রদায়িক চরমপন্থা [radical secularism/ secular extremism]। আর এই প্রচেষ্টা কখনো ভাল ফল বয়ে আনবে না; এই দেশের অধিকাংশ জনগণের জন্য। আর এর বিরুদ্ধচারিতা আর আন্দোলনও দানা বেধে উঠছে। আর এই সরকারের অধিকাংশ কর্মসূচীই বিধ্বংসী; যাতে নেই অধিকাংশ জনগণের চিন্তার প্রতিফলন। আর যার নেই কোন যুক্তিযুক্ত ধারাবাহিকতা।

আর সরকারের মধ্যে যে অতিমাত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষবাদের বীজ রয়েছে তা সংখ্যার বিচারে নিতান্তই কম অথচ যার প্রভাববলয় অনেক বেশী। আর এই অল্প প্রভাবশালীরাই এই সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। যা প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে জিইয়ে রাখা হচ্ছে।  আর এই সকল কর্মসূচী জনবিচ্ছিন্ন, সমর্থনহীন যার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা আর ন্যায়নিষ্ঠতা খুব দ্রুতই মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য; আর তা বুমেরাং হবে ঐ সকল নীতিনির্ধারকদের জন্য। আর বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এমন আত্মবিধ্বংসী নীতিমালা চেপে দেয়াকে স্বভাবতঃই বরদাশত করবে না; আর এখানকার দ্বীনদার মুসলিমরা তো নয়ই।

কুরআনের কিছু উদ্ধৃতি দিয়েই শেষ করতে চাই:

"আর যখন তাদেরকে বলা হয় দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করোনা, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করছি। মনে রেখো, (বস্তুতঃ) তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করেনা।"[সূরা বাকারাহ্: ১১-১২]

আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? [সুরা তওবাহ:৬৫]

“নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।“ [সূরা আলে-ইমরান: ১৯]

“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।“[সূরা আলে-ইমরান: ৮৫]


"হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি-সাধনে কোন ত্রুটি করে না; তোমরা কষ্টে থাক, তাতই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্য নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও। দেখ! তোমরাই তাদের ভালবাস, কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মিশে, বলে, আমরা ঈমান এনেছি। পক্ষান্তরে তারা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের উপর রোষবশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। বলুন, তোমরা আক্রোশে মরতে থাক। আর আল্লাহ মনের কথা ভালই জানেন।" [সূরা আলে-ইমরান: ১১৮-১১৯]


"এবং কাফেররা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহ্ ও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী।" [সূরা আলে-ইমরান: ৫৪]

“তারা মুখের ফুৎকারে আল্লাহ্’র আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ্ তার আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।“ [সুরা সাফফ্: ৮]

by Sayyid Mahmud Gaznabi